BBC Bangla (24 মে 2010)
বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে জঙ্গী তৎপরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু৻ তিনি বলেন যে বিরোধীদলের ডাকা হরতালকে সামনে রেখে জঙ্গী কার্য্যক্রম বাড়ছে৻
রাজধানী ঢাকার জুরাইনে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি সোমবার বলেছেন যে এসব ঘটনা থেকে জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা জোরদার করার আলামত দেখা যাচ্ছে৻
ঢাকার জুরাইন এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গীদের একটি আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় রোববার রাতে পুলিশের সাতজন সদস্য আহত হন ।
সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের ঐ সদস্যদের দেখতে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শামসুল হক টুকু ।সে সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, দেশে জঙ্গী তৎপরতা বাড়ছে । সেজন্য তিনি মূলত বিরোধী দলের ডাকা হরতাল বা রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কারন হিসেবে উল্লেখ করেন ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে জঙ্গীদের ব্যবহার করার একটা চেষ্টা থাকে ।এছাড়া জঙ্গীদের পুরোপুরি নির্মুল করা যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন ।
তবে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে গবেষনা করেন, তাদেরও অনেকেই মনে করেন, দেশে জঙ্গী তৎপরতা বাড়ছে ।কিন্তু সেজন্য হরতাল বা অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক কোন কর্মসূচিকে তারা কারন হিসেবে মানতে রাজি নন ।
অন্যতম একজন গবেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান বলেছেন, আঞ্চলিকভিত্তিতে জঙ্গীদের নেটওয়ার্ক বা যোগাযোগ তৈরির সুযোগ পাওয়ার কারনে বাংলাদেশে জঙ্গী তৎপরতা বাড়ছে ।তার মতে, ভারত এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সাথে বাংলাদেশের জঙ্গীদের যোগাযোগ বাড়ছে বা নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে ।
মে. জে. মনিরুজ্জামান
"জঙ্গী তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি অনেক আগে থেকেই চলে আসছে"
মে. জে. মনিরুজ্জামান
এই ক্ষেত্রে মি: মনিরুজ্জামান সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ভারত এবং পাকিস্তানের কিছু জঙ্গী সংগঠনের লোক আটক হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন ।এমন পরিস্থিতি থেকে তারা জঙ্গী তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি অনেক আগে থেকেই চলে আসছে বলে জেনারেল মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন ।
এদিকে ঢাকার জুরাইন এলাকার ঘটনায় দু’জন জঙ্গীকে যে আটক করা সম্ভব হয়েছে ।
তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেছেন, আটকরা তাদের সম্পৃক্ততার প্রশ্নে নিষিদ্ধ জেএমবি বা হিজবুত তাহরির সহ বিভিন্নসময় বিভিন্ন সংগঠনের নাম বলছে ।
ফলে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোও যে অন্য নামে বা নতুনভাবে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে , সেটা বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষিদ্ধ ঘোষিত এবং এর বাইরে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকান্ডের উপর নজরদারি বাড়িয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন ।
তবে স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার দাবি করেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ভিন্নভাবে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলেও এসব সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবধরনের তথ্য এখন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে রয়েছে এবং সে কারনে ঐ সংগঠনগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হচ্ছে ।